বাজারে কত পার্ফিউম অয়েল আসে যায়, সবকিছুই কিন্তু মন টানে না। কারন পার্ফিউমের জগতে লিজেণ্ডারি জিনিস হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ যেমনটা ভ্যাম্পায়ার ব্লাডের আছে। কিন্তু টামারিণ্ড শুধু লিজেণ্ডারি না, এটা লিজেণ্ডারি প্রো ম্যাক্স লেভেলের জিনিস, যেন কোনো ভিন্ন ধাতুতে গড়া। এর ঘ্রাণ তো সেরাই, এর চেয়েও সেরা হচ্ছে এর দুই দিনের লাস্টিং গ্যারান্টি!
টামারিণ্ডের সুপার হাই প্রজেকশন যেন আরেকটা অলিখিত শর্ত। অনেকটা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্রের মতো—একটু বেহিসেবি, কিন্তু অদ্ভুত এক আকর্ষণ নিয়ে আসে। এমনই আকর্ষণের গল্প আছে ইবতিহাজ সাহেবের, যিনি ছিলেন আটপৌরে এক অফিসের আটপৌরে একজন অফিসার। জীবনটা চলত ঘড়ির কাঁটার তালে তালে। সিগ্নেচার স্মেল বলতে কিছু আছে, এটা তিনি তখনো জানেন না৷
কিন্তু যেদিন প্রথমবার টামারিণ্ড আলফা মেখে তিনি অফিসে ঢুকলেন। কী এক কাণ্ড! পিয়ন থেকে বস পর্যন্ত সবার চোখে এক অদ্ভুত দ্যুতি। যেন তিনি অফিস কক্ষে ঢোকেননি, তার জায়গায় ঢুকেছে এক ফিনফিনে সুগন্ধের ফরাসি বাতাস। এক সহকর্মী মুগ্ধ হয়ে বললেন, “স্যার, আজ আপনাকে কেমন যেন রহস্যময় লাগছে।”
ইবতিহাজ সাহেব তো অবাক। রহস্যময়! তিনি তো স্রেফ একটা পার্ফিউম মেখেছেন।
কিন্তু তিনি তো এখনো জানতেন না, এই টামারিণ্ড আলফা তো শুধু ঘ্রাণ নয়, এ যেন এক অদৃশ্য পোশাক, যা ব্যক্তিত্বকে দশ গুণ বাড়িয়ে দেয়। এর স্মেলটা এতটাই আধুনিক আর স্ট্যাণ্ডার্ড যে, ইবতিহাজ সাহেব ইদানীং নিজেই ভাবেন, “এই জিনিস আমার ব্যক্তিত্বকে সাক্ষরিত করেছে, যদি এই বোতল শতবারও শেষ হয়, আমি শতবারই কিনব।”
সেদিন সন্ধ্যায় তিনি গেলেন এক গেট টু গেদারে। লোকে তার চারপাশে ঘুরঘুর করছে। “কী ঘ্রাণ ভাই, মনটা কেমন উচ্ছাসিত করে দেয়!” একজন টামারিণ্ড আলফার পুরনো ইউজার উনার কাছে গিয়েই বলে ফেললেন, “ভাই টামারিণ্ড মারসেন না?” এই মালের মাঝে হারায় যাওয়া একটা নস্টালজিক ব্যাপার আছে। পুরনো দিনের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে, আবার আধুনিকতার হাতছানিও দেয়।
টামারিণ্ড মাখার পর প্রথমবার যখন ঘ্রাণটা ছড়িয়ে পড়ত, তখন ৮-১০ ফিট দূরে থেকেও নাকি সেটা বোঝা যেত। এটা মাখার পর ইবতিহাজ ভাইয়ের নাকি মনে হয়, তিনি হাঁটছেন না, যেন এক সুগন্ধের নদী হেঁটে চলেছে তার সাথে।
এর স্মোকি, ভেটিভার, লেদারি, ওয়ার্ম স্পাইসি, আর্থি টেক্সচারগুলো কেমন একটা এলিগেন্ট আর এলিট ভাব দেয়। কর্পোরেট মিটিং, বিয়েবাড়ি—সব জায়গায় সে হিরো বনে যায়। আর টামারিণ্ড আলফা যখন পুরনো হতে থাকে তার তুলনা অনেকটা এক পুরোনো দিনের চিঠির মতো মনে হয়, যার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে কত স্মৃতি আর মিষ্টি সুবাস।
আজ আবারো টামারিণ্ড আলফা ব্যবহারের টাইমে এক গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন ইবতিহাজ সাহেব। উনি এখন জানেন নিজের সিগ্নেচার প্যাটার্ণ ক্রিয়েট করার জন্য সুগন্ধি কতটা জরুরি আর এই টামারিণ্ড আলফা জিনিসটা তো মাস্ট হ্যাভ। পকেটে রাখা একদম অনিবার্য।
ইবতিহাজ ভাইয়ের মতো সুগন্ধিপ্রেমীক মানুষরা বুঝে খুব সহজেই, কিছু ঘ্রাণ কেবল ঘ্রাণ হয়ে থাকে না। তারা গল্প হয়ে ওঠে।





Porag Rowsan –
এটার লাস্টিং এতো বেশি যে ইউজের ৭ দিন পরেও যদি কাপড় ধোয়া হই তাও কাপড়ের থেকে ঘ্রান যাইতে চায় না, স্মেলটাও ইউনিক আছে একটা গাম্ভীর্য বহন করে।