এখন দেখি ল্যাভেণ্ডার টাইপের স্মেলের কত চাহিদা, একটা টাইমে কিন্তু ল্যাভেন্ডারকে ওল্ড স্কুল একটু পুরনো ধাঁচের বারবারশপ টাইপ সুগন্ধ ভাবা হতো, কিন্তু ল্যাভেণ্ডারের মতো সিঙ্গেল নোট পার্ফিউমকেও যে মডার্ণ বানিয়ে সবার পছন্দের শীর্ষে তুলে আনা যায় সেটা দেখিয়ে ছাড়লো Le Labo, তারা ঠিক করলো, যেভাবেই হোক এই নোটটাকে নতুন করে “জাগিয়ে তুলতে” হবে। ২০২৩ সালে তারা এমন একটা ঘ্রাণ তৈরি করার পরিকল্পনা করে, যেটা ল্যাভেন্ডারকে একেবারে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। না খুব ক্লাসিক, না খুব মিষ্টি, বরং আধুনিক, সফট, ক্লিন এবং একটু রহস্যময় একটা ঘ্রাণ। এই আইডিয়া থেকেই জন্ম নেয় Lavande 31, এমন এক সুগন্ধি, যেটা পরিচিত একটা নোটকে ভেঙে আবার নতুনভাবে গড়ার গল্প সবার সামনে এনেছিলো, আর পেয়েছিলো COUPLE PERFUME এর ট্যাগ, কারণটা বলছি সামনে৷
এই ঘ্রাণের পেছনে ছিলেন পারফিউমার Daphné Bugey, যিনি Le Labo এর অনেক আইকনিক কাজের সাথেই জড়িত। এখানে কোনো ১০–২০ বছরের আলাদা “রিসার্চ প্রজেক্ট” ছিল না; বরং পুরোটাই অভিজ্ঞতার খেলা আর নতুন কিছু তৈরির স্বপ্ন। বছরের পর বছর ধরে ল্যাভেন্ডারের ক্লাসিক ফর্মুলা নিয়ে কাজ করতে করতে তিনি বুঝেছিলেন, এই নোটটাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে হলে তাকে একা ফেলে রাখা যাবে না, বরং অপ্রত্যাশিত উপাদানের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কয়েক মাস থেকে এক-দেড় বছরের ফর্মুলেশন, টেস্টিং আর রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে তৈরি হয় এই কম্পোজিশন, যার পেছনে আসলে বহু বছরের একিউমুলেটেড নলেজ কাজ করেছে।
গল্পটা যেন এমন, একটা ল্যাভেন্ডার ফ্লাওয়ার, যাকে সবাই চিনে, কিন্তু কেউ নতুনভাবে একে আবিষ্কার করেনা। সেজন্যই পার্ফিউমার প্রথমে তাকে জাগিয়ে তুলেছেন এর টপ নোটে থাকা বার্গামট আর নেরোলি দিয়ে, তার উপর ফেলা হয়েছে উচ্ছ্বাসিত হালকা সিট্রাসের আলো। তারপর ধীরে ধীরে সেই ল্যাভেন্ডার নিজেকে প্রকাশ করতে শুরু করলো স্বাধীনভাবে একদম ক্লীন, সফট আকারে, কিন্তু এবার আর এর ঘ্রাণ সেই ওল্ড স্কুল টাইপ নাই বরং পুরোদস্তুর মডার্ণ হয়ে গেছে। আর ঘ্রাণটা যখন ড্রাইডাউনে জামায় বসে যায়, তখন হোয়াইট মাস্ক, অ্যাম্বার আর টঙ্কা বিন এসে তাকে একটা উষ্ণ, স্কিন-লাইক সিডাকটিভ স্ট্রাকচার দিয়ে যায়, যা ফেরোমনকে ট্রিগার করে। এই নোট স্ট্রাকচারটাই Lavande 31 কে আলাদা করেছস সবকিছু থেকে৷ আর আমরা এই Lavende 31 এর নোটসে টিউব রোজ আর জেসমিনের বেইজ নোটস এড করে এমন কম্পোজিশন বানিয়েছি যে এটাকে এখন লাভ-বার্ড পার্ফিউম বলা যায়, কারণ এটা ফেরোমনকে জাগিয়ে তোলে৷ সেজন্যই আমরা নামটাও দিয়েছি Pheromone Favour
Lavande 31 আমার দেখা খুব শক্তিশালি পার্ফিউম, এটার ফ্রাগ স্ট্রাকচারকে এনহান্স করা আমাদের জন্য বেস্ট টাফ ছিলো, যেহেতু ইন্সপায়ার্ড তৈরি করতে গিয়ে আমাদের আলাদা নোটস এড করতে হয়েছে৷ তাই মেইন পার্ফিউমের যেই সেন্টারা ভার্শনটা আছে এটা আমার কাছে এক মটা “reinterpretation”। Lavende 31 এর ক্ষেত্রে যেমন তারা একটা ডাইভার্সিটি দেখিয়েছে, আমরা আবার Lavende নিয়ে তাই করতে চেয়েছি৷ কারণ এখানে আবিষ্কারটা কোনো নতুন উপাদান নয়, বরং পুরনো একটা উপাদানকে নতুনভাবে দেখার স্বপ্ন। আর সেই কারণেই এই সুগন্ধির গল্পটা যতটা না ফ্রাগমিক্সিং এর তারচেয়ে বেশি দৃষ্টিভঙ্গির। Pheromone Favour আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিলো কারণ আমি এটা সব ক্যাটাগরির মানুষকে দিতে পারবোনা৷ তবে যাদের দিতে পারবো তাদের কাছে এটা আসলেই অনেককিছু যা আবিয়েতিরা ফীল করতে পারবেনা হেহ!





Reviews
There are no reviews yet.