লন্ডনের কনকনে শীতের সকালে যখন রিজভী তার অ্যাপার্টমেন্টের জানালা খোলে, বাইরের হিমশীতল হাওয়া আর আর্দ্র মাটির এক সোঁদা গন্ধ তাকে আরো অলস বানিয়ে দেয়, কিন্তু বাইরে তো বেরোতেই হবে, আজ যে এক ব্যস্ত দিন। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সে যখন সেন্টারা থেকে নিয়ে আসা Dunhill Icon পারফিউম অয়েলের সলিড মেটালিক ক্যাপটা খোলে, এক নিমেষেই তার ঘরটা যেন এক সতেজ আরব্য বাগান আর ব্রিটিশ আভিজাত্যের সংমিশ্রণে ভরে ওঠে। কবজিতে এক ফোঁটা দিতেই প্রথমে নাকে ঝাপটা দেয় ইতালিয়ান বারগামট আর নেরোলির সেই সাইট্রাসি রিফ্রেশিং ভাইব, যা তার ভোরের অলসতাকে চুটকিতে দূর করে দেয়। সাইট্রাসের সেই সতেজতার সাথে যখন ব্ল্যাক পেপার আর এলাচের ওয়ার্ম স্পাইসি নোটগুলো খেলা করতে শুরু করে, তখন রিজভীর মনে হয় আজকের প্রেজেন্টেশনের লিডিং দিতে সে এবার প্রস্তুত।
ভার্সিটির করিডোর দিয়ে যখন সে হেঁটে যায়, তখন তার গায়ের সেই ল্যাভেন্ডার আর গ্রিন নোটের অ্যারোমেটিক সুবাসটা বাতাসে এক ধরনের প্রশান্তি ছড়ায়। ক্লাস লাইব্রেরিতে পাশে বসে থাকা সহপাঠীরা যখন নিজেদের বইয়ে মগ্ন, তখন রিজভীর শরীর থেকে ভেসে আসা হোয়াইট ফ্লোরাল আর সেজ-এর সেই ক্লিন, সফিস্টিকেটেড ঘ্রাণটা সবার অজান্তেই তাদের মনোযোগ কেড়ে নেয়। এটি কোনো উগ্র সুবাস নয়, বরং এটি এক ধরনের ‘আবেদনময়ী গাম্ভীর্য’ যা রিজভীর ব্যক্তিত্বকে রহস্যময় এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলে। দিন যত গড়ায়, পারফিউম অয়েলটির আসল জাদু তখন আরো উন্মোচিত হয়; সাইট্রাস আর স্পাইস ছাপিয়ে যখন ভেটিভার, ওকমস আর হালকা চন্দন বা উডি নোটগুলো তার চামড়ায় বসতে শুরু করে, তখন তৈরি হয় এক গভীর আর্থি (Earthy) এবং ক্লাসি ফিনিশিং।
বিদেশের এই যান্ত্রিক জীবনে রিজভীর কাছে পার্ফিউম এর স্মৃতির আয়না, এই ঘ্রাণে সে অনেকের অস্তিত্ব খুঁজে পায়। আর Dunhill Icon তো এখন তার আত্মপরিচয়ের একটি অংশ। কনফারেন্স রুম থেকে শুরু করে কফি শপের ভিড়, সবখানেই এই সুবাসটি তাকে এক অনন্য আভিজাত্যে মুড়িয়ে রাখে। রিজভী যখন ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাসায় ফেরে, তখনও তার গায়ের সেই ড্রাই ডাউন উডি আর মাস্কি রেশটুকু তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, ভিড়ের মাঝেও সে আলাদা, সে এক আধুনিক আইকন। এক টুকরো সতেজতা আর অনেকটা সাহসের নামই যেন তার কাছে এই Dunhill Icon। সেন্টারা থেকে কিনে আনা ১৫ টি পার্ফিউম অয়েলের মধ্যে এটি অন্যতম সেরা একটি পার্ফিউম অয়েল বলতেই হবে।




Reviews
There are no reviews yet.