অ্যাঁই অ্যাঁই কিসের ঘ্রাণ রে ভাইয়া এটা? কি সুউউন্দররর! জুহাইর কে জিজ্ঞাসা করলো তার ছোটবোন জুনাইনাহ।
আরিফ অপ্রস্তুতভাবে ছোট করে উত্তর দিলো “বিত্তিখাতুনের” বলেই চলে গেলো নিজের রুমে, উদ্দেশ্য ল্যাপটপ নিয়ে বসা, কিছু রিসার্চওয়ার্ক করা৷
“বিত্তিখাতুন” শুনেই জুনাইনাহর ভ্রু উপরে উঠে গিয়েছিলো, ভাইকে তড়িঘড়ি করে ঘরে ঢুকতে দেখা মাত্রই সে এক দৌড়ে মায়ের কাছে রান্নাঘরে গিয়ে হাত কচলাতে কচলাতে বললো, আম্মু একটা কথা আছে, কিন্তু আগে বলো যে ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করবেনা৷
ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করবেনা শুনতেই মায়ের আগ্রহ বেড়ে গেলো, তরকারি জ্বললে জ্বলুক আগে শুনে নেই যে কি জিজ্ঞাসা করতে পারবোনা এমন একটা ভাব নিয়ে বললো, বল বল কি কথা?
জুনাইনাহর আবদার ভাইকে যেন জিজ্ঞাসা করা না হয়, মা সম্মতি জানালো যে জিজ্ঞাসা করবে না, জুনাইনাহ বললো, মা ভাইয়া মনে হয় প্রেম করে৷ মা জিজ্ঞাসা করলো কিভাবে বুঝলি?
জুনাইনাহ বললো ভাইয়াকে ঘরে ঢুকতেই পুরো ঘর সুগন্ধিতে ভরে গেছে, তাই জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি মেখেছে, সে জবাব দিলো এটা নাকি “বিত্তিখাতুনের ঘ্রাণ” এরপর দ্রুত ঘরে চলে গেছে৷
“বিত্তিখাতুন” শুনতেই মায়ের চোখ ছলছল করে উঠলো, ওরেএএএ জুহাইর রেএএ! বলেই চলে গেলো জুহাইরের রূমে মেয়েকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভেঙে। গিয়েই জিজ্ঞাসা করলো, ভার্সিটিতে উঠেই বুঝি তোর প্রেমটা শুরু করতে হলো? কে ঐ বিত্তিখাতুন কে বল আমাকে?
এদিকে মা কে আসতে দেখে জুহাইর ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল, বললো আরে আম্মু শান্ত হও! আগে বলো তোমার কুটনী মেয়ে কই? মা বললো খবরদার ওকে কিছু বলবি না, দোষ করবি তুই আর বকবি ওকে? জুহাইর বললো, হ্যা দোষ করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়ে৷
মা বললো কেন বিত্তিখাতুন কে সেখানেই চিনেছিস? জুহাইর বললো হ্যাঁ, “বিত্তিখাতুন” মানে “তরমুজ” তরমুজ কে আরবিতে বিত্তিখাতুন বলে, কথায় কথায় বলে ফেলেছি তোমার কুটনী মেয়েকে আর তাতেই লঙ্কা কাণ্ড৷
মা এতোক্ষণে টের পেলো ঘর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেন্টারার “ওয়াটারমেলন” উরফে বিত্তিখাতুন আতরের ঘ্রাণ, আর লজ্জা পেয়ে বললো আর কিছু পেলি না এই নাম বাদে? এরপরই হাঁক দিয়ে উঠলো কইরেএএএ জুনাইনাহ কইইইই? বলেই উঠে গেলো।
আর এদিকে জুনাইনাহ তো দরজার আড়াল থেকে সব আগেই শুনেছে, শুনেই সে নিজের কূটনামির ফল থেকে বাঁচতে লুকিয়ে পড়েছে অন্যরুমে গিয়ে৷
তো মোরাল অব দ্যা স্টোরি হলো, সেন্টারার “ওয়াটারমেল” আতরের ঘ্রাণ এতো বেশি লং লাস্টিং আর হাই প্রজেক্টিং যে মানুষ এসে জিজ্ঞাসা করবেই যে ভায়া কি মাখলেন শরীরে? তখন সাবলীল ভাষায় বলুন যে ভাই এটা সেন্টারার “ওয়াটারমেল” বিত্তিখাতুন বইলা ধরা খাইয়েন না৷




Reviews
There are no reviews yet.