গল্পের শুরুটা হয় সমুদ্রের অতল গভীরে, যেখানে রাজত্ব করে দানবীয় আকৃতির স্পার্ম তিমি। এই তিমির প্রিয় খাবার হলো স্কুইড। তিমি যখন গোগ্রাসে স্কুইড গিলে নেয়, তখন স্কুইডের শক্ত আর ধারালো চঞ্চুগুলো তিমির নরম পাকস্থলীতে গিয়ে বিঁধতে থাকে। এই জ্বালাতন থেকে বাঁচতে তিমির শরীর থেকে এক প্রকার মোমের মতো আঠালো পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা ওই ধারালো অংশগুলোকে চারপাশ থেকে ঢেকে ফেলে একটি পিণ্ডের আকার দেয়। এক সময় তিমি এই পিণ্ডটি মুখ দিয়ে বমি করে বের করে দেয় অথবা মলের সাথে ত্যাগ করে। ব্যস, তিমির কাজ শেষ! কিন্তু আসল জাদু শুরু হয় এর পর।
সদ্য নির্গত এই পিণ্ডটি শুরুতে থাকে কালো রঙের এবং এর থেকে উৎকট পচা গন্ধ বের হয়। কিন্তু প্রকৃতির কী অদ্ভুত নিয়ম! বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক ধরে এই পিণ্ডটি সমুদ্রের নোনা জলে ভাসতে থাকে। সূর্যের প্রখর তাপ আর নোনা জলের ঝাপটায় এর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। কালো রঙ বদলে হয়ে যায় ধূসর বা রুপালি সাদা, আর দুর্গন্ধ পাল্টে গিয়ে তৈরি হয় এক মায়াবী সুবাস—যাকে বলা হয় সমুদ্রের নিজস্ব পারফিউম। দীর্ঘ যাত্রা শেষে এই ভাসমান পিণ্ডটি যখন কোনো সৈকতে এসে আছড়ে পড়ে, তখন এটি আর সাধারণ কোনো বর্জ্য থাকে না, বরং হয়ে ওঠে কোটিকোটি টাকার ‘ভাসমান সোনা’।
কোনো ভাগ্যবানের চোখে যদি এটি পড়ে যায়, তবে এক রাতেই তার জীবন বদলে যায়। কারণ, বিশ্বের নামী-দামী পারফিউম ব্র্যান্ডগুলো তাদের সুগন্ধিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হন্যে হয়ে এই অমূল্য বস্তুটি খুঁজে বেড়ায়।





Reviews
There are no reviews yet.