জায়েদ ছেলেটা প্রচণ্ড স্বপ্নবিলাসী। উজবেকিস্তানের একটা স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর জন্য সে একটা প্যারামেডিক সার্ভিসে জব করে। উজবেকিস্তানের শুষ্ক আর চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া—কখনো হাড়কাঁপানো শীত, আবার কখনো খটখটে রুক্ষ গরম।
সারাদিনের ক্লাস, মেডিকেলের কঠিন পড়া আর ইমার্জেন্সি ডিউটির প্রেশারে প্রায়ই সে হাঁপিয়ে ওঠে, কিন্তু একটা জিনিস বরাবরই তাকে ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয় ব্যাপকভাবে রিফ্রেশ করে দেয়। সেটা হলো তার প্যারামেডিক সুপারভাইজারের পারফিউমের ঘ্রাণ।
সুপারভাইজারের সাথে যখনই তিনি মিটিং এ বসেন অথবা তিনি যখনই পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেন, জায়েদের মনে হতো যেন এক ঝলক রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলের ঠান্ডা বাতাস বয়ে তার লাশ দিয়ে গেল। একদিন কৌতূহল সামলাতে না পেরে সে জিজ্ঞেস করেই ফেলে। জানতে পারে, পারফিউমটির নাম Louis Vuitton Afternoon Swim। ঘ্রাণটা একদম sun-soaked citrus aquatic যেন কাঠফাটা রুক্ষ গরমের দুপুরে সমুদ্রের নীল জলে ডুব দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত।
সুপারভাইজারের কাছাকাছি গেলেই জায়েদ টের পেত শুরুতেই রসালো সিসিলিয়ান অরেঞ্জ, বার্গামট আর ম্যান্ডারিনের একটা ঝলমলে সাইট্রাস ব্লাস্ট, এরপর হালকা জিঞ্জারের স্পার্ক পুরো পরিবেশটাকে করে তুলতো energetic, crisp আর ultra-refreshing। ঘ্রাণটা এতটাই সতেজ যে, চোখ বন্ধ করলেই মনে হতো কেউ যেন সদ্য সুইমিংপুলের ঠাণ্ডা নীল পানি থেকে সাঁতার কেটে উঠে এসেছে। কিন্তু ইন্টারনেটে দাম চেক করে জায়েদের স্বপ্নবিলাসী মন দমে যায়। ফুল প্রেজেন্টেশনের এত দাম যে, প্রবাসে পড়তে যাওয়া একজন মেডিকেল স্টুডেন্টের বাজেট হিসেবে সেটা কেনা তার কাছে তখন আকাশকুসুম কল্পনা।
এইবছর ঈদের ছুটি কাটাতে দেশে আসে জায়েদ, নানান কেনাকাটার ফাঁকে পার্ফিউম আর আতরের দোকানগুলোও ঘুরে ঘুরে দেখে, নানান স্মেলই ভালো লাগে কিন্তু তেমনটা না যেমন সেই ‘Afternoon Swim’-এর রিফ্রেশিং ঘ্রাণটা তার অবচেতন মনে গেঁথে ছিল। মাঝেমধ্যেই তার মনে হতো, ইশ! যদি ওই সতেজতাটা আবার ফিরে পাওয়া যেত কোনো সুগন্ধিতে !
ঈদের বাকী আর ক’টা দিন, একদিন নিজের রুমে বসে ল্যাপটপে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ তার চোখে পড়ে Scentara-এর পেইজ, কিছু লেখা পড়ে তার ভালো লাগায় তিনি চলে যান তাদের ওয়েবসাইটে। পারফিউম অয়েল আর ফ্র্যাগ্রেন্সের চমৎকার সব কালেকশন তার পাশাপাশি সুন্দর বর্ণনাগুলো দেখতে দেখতে সে খেয়াল করে, তাদের ওয়েবসাইটে ঠিক এই LV Afternoon Swim লেখাই একটা প্রোডাক্ট আছে।
নোটসগুলোতে সেই বার্গামট, অরেঞ্জ আর জিঞ্জারের কথাই লেখা। খুব একটা আশা না করেই, স্রেফ কৌতূহল আর পুরনো স্মৃতির টানে কিছুটা আন্দাজেই প্রোডাক্টটা অর্ডার করে বসে সে। পার্সেল হাতে পাওয়ার পর জায়েদের বুকের ভেতর হালকা উত্তেজনা কাজ করছিল। প্যাকেজিংটা খুলে খুব সাবধানে সে বোতলের ছিপিটা খোলে। চোখ বন্ধ করে প্রথমবার স্নিফ নিতেই সে আক্ষরিক অর্থেই চমকে ওঠে!
এ তো হুবহু সেই ঘ্রাণ! সেই রসালো ম্যান্ডারিন, সিসিলিয়ান অরেঞ্জের সাইট্রাস ব্লাস্ট আর জিঞ্জারের সেই পরিচিত স্পার্ক। মুহূর্তেই চোখের সামনে যেন ভেসে ওঠে উজবেকিস্তানের সেই ব্যস্ত কিন্তু সতেজমাখা দিনগুলো। এক নিমেষেই যেখানে তার সারাদিনের ক্লান্তি ধুয়ে যায়, ঠিক যেন একছুটে সে ঝাঁপ দিয়েছে বরফশীতল নীল জলের কোনো সুইমিংপুলে। সেন্টারার এই ছোট্ট বোতলটা যেন তার বহুদিনের সেই অপূর্ণ দামি স্বপ্নটাকে একদম নিখুঁত আর সাশ্রয়ী বাস্তবতায় রূপ দিয়ে দিল।





Reviews
There are no reviews yet.