উহহু এটা কি আতর দিলেন ভাই? এতো আস্থা করে নিলাম আতরটা ভাই কিন্তু ঘ্রাণই থাকে না, অনেক মর্মাহত হলাম আমি৷……………. ব্লক!
.
দাঁড়ান ভাই! আমাদের বলার সুযোগ দিন আগে, এটা শুধু আমি নিজেদের পেইজের জন্যই না বরং অনলাইনে সুগন্ধি নিয়ে কাজ করে এমন সবার পক্ষ থেকেই লিখছি৷ কারন সুগন্ধির লাস্টিং নিয়ে অনেক মিথ, মিথ্যা এবং অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে সমাজে, যা থেকে বের হয়ে সত্যতার খোঁজ করা জরুরি৷ নাহলে যতবারই সুগন্ধি কিনবেন ততবারই আশাহত হতে হবে।
.
একটা কথা মনে রাখবেন, সুগন্ধির লাস্টিং সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে পরিবেশ, কাপড় এর ধরণ এবং অবশ্যই আতরের মান এর উপর৷ কিন্তু আতরের লঞ্জিবিটি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় কাপড় ও পরিবেশ এর কারনেই। আর সত্য কথা বললে বাংলাদেশের পরিবেশ পার্ফিউমের জন্য খুবই খারাপ, স্পেশালি গরমের দিনে। কারন এইদেশের জলবায়ুতে আদ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি। এখন আদ্রতা কিভাবে ঘ্রাণের আয়ু কমিয়ে দেয়, সেটা একটু বলি চলেন৷
.
উচ্চ আর্দ্রতায় বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে। এতে করে পারফিউমের ভোলাটাইল উপাদানগুলো (যেগুলো বাতাসে মিশে ঘ্রাণ ছড়ায়) দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়, ফলে longevity কমে যায়। কিছু পারফিউম বা আতর যেগুলোর টপ নোট হালকা (যেমন: সাইট্রাস, ল্যাভেন্ডার), সেগুলো আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত “ম্লান” হয়ে যায়। ফলে আপনি ঘ্রাণ টের পাওয়ার আগেই তা মিলিয়ে যায়।
.
ঘাম ও ত্বকের লবণাক্ততা অনেক সময় পারফিউমের উপাদানগুলোর সঙ্গে মিশে অপ্রীতিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে। এবং ঘ্রাণ ধুয়েও যায়, তাছাড়া বাংলাদেশে দিনের বেলায় গড় তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। এতে অনেক পারফিউমের বেইজ নোট (যেমন: উডি, মস্কি, অ্যাম্বার) ঠিকভাবে ডেভেলপ করতে পারে না।
.
আর্দ্র ও ভারী বাতাস ঘ্রাণকে শরীরের কাছাকাছি আটকে রাখে। ফলে ঘ্রাণ আশেপাশে ছড়ায় না বা “ছাপ” রেখে যায় না”, যা longevity ও presence উভয়কে প্রভাবিত করে। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, বাংলাদেশে কি সৌদির চেয়েও বেশি গরম? আরব শেখরা যে আতর ইউজ করে বের হয় তার ঘ্রাণ তো ম্লান হয় না। এর কারন কি?
.
আবারো খেয়াল করুন, বিষয়টা কেবল গরমের না বরং আদ্রতার৷ সৌদিতে চামড়া পোড়ানো গরম হলেও সেখানে আদ্রতা নেই বললেই চলে, সেজন্য শরীর ঘামে না। আর আরবরা ইউজ করে হিন্দি আগর, মেশক, অ্যাম্বারগ্রিস, সান্দাল আসলি যার সবই হচ্ছে ন্যাচারাল বা অর্গানিক আতর। আর এগুলোর মলিকিউল সিন্থেটিক আতরের তুলনায় অনেক বেশি ভারী সেজন্য ঘ্রাণ হয় অত্যন্ত কড়া এবং টেকেও বেশি। বাংলাদেশের মানুষ এগুলোর ঘ্রাণ সহ্য করতে পারবে? তারচেয়ে বড় কথা এফোর্ডই বা করতে পারবে কয়জন?
.
আমাদের দেশ গরীব দেশ, আরবরা যেসব আতর ব্যবহার করে তার দাম কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত, আমাদের দেশের কাউকে এসব আতরের দাম বললেই তো হার্টফেইল করবে। তাই এসব ব্যাপারে বাস্তবসম্পন্ন ডিসিশন নিতে হবে। গরমের দিনে ব্যবহার করার জন্য একটু ভারী আতর ইউজ করতে হবে আর ঠাণ্ডার দিনে হালকা ঘ্রাণের পার্ফিউম ইউজ করলে ভালো লাস্টিং করবে।
.
তাছাড়া আরেকটা কথা তো রয়েই গেছে, আপনার পার্ফিউমের মান কেমন তার উপরও লাস্টিং এবং প্রজেকশন প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে যেই পার্ফিউমগুলো আসে তার ম্যাক্সিমামই ক্লোন, এবং এই ক্লোনের উপর একাধিক গ্রেড এবং রেট পয়েন্ট আছে। ভালো গ্রেডের এবং ব্র্যাণ্ডেড আতরগুলোর প্রেজেন্স এবং লাস্টিং তুলনামূলক ভালো হয় যেহেতু সেগুলো অ্যারোমাগ্রেড সিন্থেটিক কেমিক্যাল দ্বারা তৈরি। তবে যেকোনো পার্ফিউমের নোটস ম্যাসারেট হয়ে ম্যাচিওর লেভেলে আসতে একটা নির্দিষ্ট সময়ের দরকার হয়, যদি এর আগেই পার্ফিউম সেল করা শুরু হয় তাহলে ঘ্রাণ ফেডেড হয়ে যেতে পারে।
.
আবার অনেকে মাঝে মাঝে এসে বলে আপনার পার্ফিউম থেকে তো ফুটপাতের লাস্টিং বেশি। যদি কোনো পার্ফিউম ১০০% ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে তার লাস্টিং মবিলের ঘ্রাণের মতো তীব্র হতেই পারে। তবে এইসব আতর এতোটাই বিষাক্ত হয় যে, রেগুলার ইউজ করলে আপনি অক্কাও পেতে পারেন৷
.
আর এদেশের সেলাররা দেখবেন পার্ফিউমে ঘ্রাণের গ্যারান্টি দেয় চোখ বন্ধ করে ১ দিন বা ২ দিন পাবেন, এগুলো মিথ্যা কথা। কোনো ঘ্রাণই এতোদিন লাস্টিং করার কোনো সুযোগ নেই। ঘ্রাণ সাধারণত ৫-৭ ঘন্টা লাস্টিং করতে পারে, ব্যতিক্রমী সময়ে ১২-১৪ ঘন্টা। এগুলো নির্ভর করবে আপনার আশেপাশের আবহাওয়া কেমন, আপনার কাপড় কেমন তার উপর। ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং সুতি কাপড়ে ঘ্রাণ সবচেয়ে বেশি টিকে।
.
সুতরাং, আতর/পার্ফিউম কেনার আগে সকল বিষয় বুঝে শুনে চোখ কান খোলা রেখে তারপর ক্রয় করুন৷ তাহলে আর ঠকবেন না, কারন প্রকৃত বিষয়ের জ্ঞান হয়ে গেলে মানুষ আর আশাহত হয় না।
Copyrights reserved by
Scentara