এমন কোনো মানুষ কি আদৌ আছে সুগন্ধির সখ নেই? আমার তো মনে হয়, নেই। কারণ মানুষ যতই নিঃশব্দে বাঁচুক, তার ভেতরে কোথাও না কোথাও একটি গোপন আকাঙ্ক্ষা থাকে, নিজেকে প্রকাশ করার, নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়ার। আর সেই প্রকাশের সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে গভীর মাধ্যমই তো সুগন্ধি। ভাষা যেখানে থেমে যায়, চোখ যেখানে ব্যর্থ হয়, সেখানে নিঃশব্দে কথা বলে ঘ্রাণ।
কিন্তু সেই সুগন্ধি হতে হবে মন মাতানো। এমন, যাকে সঙ্গে নিয়ে আপনি যে-কোনো ভিড়ের মাঝেও আলাদা হয়ে উঠবেন, অথচ আলাদা হয়েও বেমানান লাগবে না। এমন, যার ছোঁয়ায় নিজের ভেতর জন্ম নেবে অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাস, আর চারপাশের মানুষ অজান্তেই কাছে এসে জানতে চাইবে, এই সৌরভের উৎস কোথায়? ঘ্রাণটা থাকবে দীর্ঘক্ষণ, ঠিক যেমন কোনো প্রিয় স্মৃতি দিনের পর দিন বুকের ভেতর লেগে থাকে।
ঠিক এমনই এক সুগন্ধি আজ আপনার সামনে, নাম তার “কুসেদাই”। নামটা শুনলে মনে হয় কোনো দূর জাপানি পাহাড়ি গ্রামের গল্প, অথচ এর ঘ্রাণ সম্পূর্ণ আধুনিক ইউরোপীয়; পরিমিত, রুচিশীল, গভীর। সব জায়গায় ব্যবহারযোগ্য, সব সময় মানানসই। আসলে এটি অনুপ্রাণিত হয়েছে আর্মিসের প্রায় ৫৫ হাজার টাকা দামের Santal Massoia থেকে। এবার নিজেই ভাবুন এটার ঘ্রাণ কতটা এলিট হতে পারে। আর এর লাস্টিং ও প্রজেকশন, নিঃসন্দেহে লা-জবাব, যেন সময়ের বুকে নিজের স্বাক্ষর রেখে যায়।
আমার কাছে সুগন্ধি মানে একগুচ্ছ গল্প। তাই ঘ্রাণকে আমি গল্পের ভেতর দিয়েই বলতে ভালোবাসি। সেখানে থাকে জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত, নীরব আনন্দ, অব্যক্ত কষ্ট। কিন্তু এই পার্ফিউমটি নিয়ে কোনো গল্প লিখতে পারিনি। কারণ একে বাঁধার মতো নির্দিষ্ট কোনো স্থান, কাল বা পাত্র খুঁজে পাইনি। কুসেদাই যেন সব জায়গার, সব সময়ের, সব মানুষের। অল ইন ওয়ান। কখনো সকালের ব্যস্ততায়, কখনো বিকেলের নরম আলোয়, আবার কখনো গভীর রাতের নিস্তব্ধতায়—সবখানেই সমানভাবে মানিয়ে যায়।
এই নিঃশব্দ সর্বব্যাপিতাই তার সৌন্দর্য। কোনো ঘটনার আশ্রয় না নিয়েও যে ঘ্রাণ নিজের গল্প হয়ে উঠতে পারে, কুসেদাই ঠিক তেমনই—নির্বাক, অথচ গভীর।



Reviews
There are no reviews yet.