একটু দাঁড়ান! আপনার ব্র্যাণ্ডেড পার্ফিউম এবং ডিক্যান্ট কেনা বন্ধ করা উচিৎ কারণ আপনি হয়তো নকল বা কপি পার্ফিউম কিনছেন এবং যেই ডিক্যান্ট কিনছেন সেটাও হয়তো রেপ্লিকা পার্ফিউম থেকেই ডিক্যান্ট করা। তাই এই পোস্ট যত বড়ই হোক একটা অক্ষরও মিস দিয়েন না, অন্যথায় না বুঝে উল্টাপাল্টা কিছু কিনলে আপনার কষ্টের টাকা লিটারেলি ধ্বংস হবে। ১০ মিনিট টাইম লাগবে হয়তো পুরোটা পড়তে কিন্তু পুরোটাই পড়া দরকার তাও খুব মনোযোগ দিয়ে।
.
তার আগে একটা ঘটনা শোনেন, আমি কিছুদিন আগে যখন সৌদিতে অবস্থান করছিলাম তখন রিয়াদে একটা পার্ফিউম শপে ঢুকেছিলাম, এবং সেখানে দেখলাম বেশকিছু ডিজাইনার বা নিশ পার্ফিউম মেইন মার্কেট প্রাইজের অর্ধেক দামে সেল হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলাম এর কারণ কি? বললো এগুলো ইন্ডাস্ট্রি আউট প্রোডাক্ট সেজন্য দামটা কম, পরে একটা পার্ফিউম ধরে ও স্নিফ করে সন্দেহ হলো তাই চলে আসলাম, বাইরে বের হতে একজন বাংলাদেশী লোকের সাথে আলাপ হয়, লোকটার বাড়ি জানতে পারলাম লাকসাম, কৌশলে তার সাথে আলাপ শেষে জানতে পারি এই দোকানের প্রায় সব পার্ফিউমই রেপ্লিকা বা কপি। এবং আরো ভয়ঙ্কর যেই তথ্যটা পাই সেটা হচ্ছে আরব থেকে প্রচুর পরিমাণ রেপ্লিকা পার্ফিউম বিভিন্ন বাংলাদেশিরা হ্যাণ্ড ক্যারি করে দেশে নিয়ে যায় এবং এটা এখন একটা রমরমা ব্যবসা।
.
এবার শোনেন, এই পার্ফিউমগুলোর আলাদা আলাদা বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে গ্রেড আছে৷ কোনোটাকে বলে চীপ রেপ্লিকা, কোনোটাকে বলে ভিয়েতনামিজ মাস্টারগ্রেড, কোনোটাকে বলে দুবাই হাইগ্রেড আবার কোনোটা চাইনিজ হ্যাণ্ডি ক্লোন। এবং প্রত্যেকটাই এসব দেশের নির্দিষ্ট গ্রে মার্কেট থেকে আসে৷ চায়না সফরকালে আমি Guangzhou Baiyun / Sanyuanli wholesale belt, Yiwu International Trade City ঘুরে দেখেছি, ওখানে রেপ্লিকার একটা ইকোসিষ্টেম আছে, স্পেশালি গুয়াংজু তে পাতিতে করেও সেল করে এমন অবস্থা। আর কিছুদিন আগে দুবাই সফরের টাইমে তো দেইরা আর নায়েফ সুকে দেখলামই কতরকম ক্লোনে সয়লাব, ড্রাগন মার্কেটে অবাধে পাজিত, বাঙ্গালী আর পাকিরা ক্লোন কিনছে এবং লাগেজে ভরছে। এখন আপনি চিন্তা করেন এতো এতো ক্লোন যাচ্ছে কই। আমিই উত্তর দিয়ে দিবো পড়তে থাকুন।
.
ভিয়েতনাম এবং থাইল্যাণ্ড আমার রিসেন্টলি সফর করা হয়নি, তবে সেখানে থাকা আমার কিছু কাছের লোক থেকে জানতে পেরেছি ভিয়েতনাম Ben Thanh Market এবং এবং ব্যাংককের MBK Center হচ্ছে কপি পার্ফিউমের আতুড়ঘর, এখানেও মূলত চাইনিজ প্রোডাক্টই আসে তবে হাইগ্রেডের, এখানে আনার পর ভেতরে একটু কোয়ালিটি পার্ফিউম অয়েল ঢুকিয়ে এটাকে রি-ব্লেণ্ড করা হয় যেটাকে বলে “Rare-off” এর কারণে এগুলোর প্রজেকশন লাস্টিং খুবই ভালো লেভেলে চলে যায়, আবার এগুলোর প্যাকেজিং, বোতল সব এতোটাই নিঁখুত যে আপনি ধরতে পারবেন না আসল নাকি নকল, অনেক্ষেত্রেই রিসাইকেল করা আসল বোতল ইউজ করা হচ্ছে। এগুলোকেই মূলত ভিয়েতনামিজ কপি বলে। এগুলো আরবের গ্রে মার্কেটে যায় সেখান থেকে এগুলোর প্রাউড মার্কেট হিসেবে আসে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশে। পাকিস্তান এতোদিন পর্যন্ত কপি প্রোডাক্ট আমদানীতে শীর্ষে থাকলেও গত বছরের জানুয়ারি থেকে এই মার্কেট বাংলাদেশের দখলে। কিন্তু কেন? কারণ হঠাৎ করে গজিয়ে উঠা রাইজিং ইডিপি মার্কেট।
.
নিশ বা ডিজাইনার তো আছেই, মিডেল ইস্টার্ণ পার্ফিউমগুলোর যেই হাইগ্রেড কপিগুলো আছে সেগুলোর প্যাকেজিং, ডিজাইন বা জুস এতো নিঁখুত যে রেগুলার ইউজারদেরও এই কপিগুলো ধরতে বেগ পেতে হয়, আরেকটা কথা হচ্ছে মিডেল ইস্টার্ণ অফিসিয়াল বাজেট হাউজের যেই অয়েলগুলো আছে সেগুলোও কোনো পার্ফিউম অয়েল হাউজ আহামরি স্ট্যাণ্ডার্ড লেভেলে তৈরি করেনা Iberchem বা Symrise প্রোডাকশন ম্যাক্সিমাম ইন বাজেট। ইউরোভ্যালিও Iberchem থেকে অয়েল নেয়। মানে খুব কম খরচেই মিডেল ইস্টার্ণ এর কপি তৈরি সম্ভব উইদ বেটার লাস্টিং প্রজেকশন, কিছুক্ষেত্রে মনে হবে যেন কপি আরো বেশি প্রজেক্ট করছে, কিন্তু স্মেলে কোনো স্মুথনেস থাকেনা।
.
আপনি কি খেয়াল করছেন বিগত কিছুদিনে ডিক্যান্টের পেইজ বা পার্ফিউমের পেইজ প্রচুর বেড়েছে? এদের সোর্স কি? কারণ দেশে বড় পর্যায়ে মিডেল ইস্টার্ণ পার্ফিউম ইম্পোর্ট করে ৫/৬ জন এদের থেকে নিয়ে বাকীরা রি-সেল করে ইম্পোর্টার সাজে, নিশ পার্ফিউমের লিগ্যাল ইম্পোর্টারও ৩ জন৷ অনেকে হ্যাণ্ড ক্যারি করে আনে ওদের হিসাব আলাদা। কিন্তু ২ দিন ধরে ওপেন করা একটা পেইজের কাছে এতো দামী দামী ডিজাইনার কিভাবে আসে? গেট টু দ্যা গেইম ব্রো। একটা অফিসিয়াল মিডেল ইস্টার্ণ ৩০০০ দিয়ে কিনে ৩৩০০ তে বিক্রি, আর ক্লোন ১৫০০ তে কিনে ঐ ৩৩০০ তেই বিক্রি। বুঝলেন? এরউপর এটা আটপার বাটপারের দেশ, চান্স পাইলেই চুরি করবে। একজন ক্লোজ সোর্স জানালেন যে উত্তরার দিকে অনেক বড় বড় শো-রুমে পর্যন্ত অরিজিনাল বলে কপি সেল করছে। আপনি ব্যাচ চেক করেও ধোঁকা খাবেন কারন ১:১ কপি।
.
কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, ইদানীং ধৃষ্টতা এতোবেশি বেড়েছে যে বুস্ট দিয়ে দিয়ে ওপেনলি কপি সেল করছে, মানুষের ইন্টারেস্টও ব্যাপক অনেক কমেন্ট অনেক লাইক, এরউপর দেখলাম বিলিভার্স সাইন ওপেনলিই অউদ আল লাইল কপিটা সেল করছে, ওদের স্বভাব হচ্ছে যেকোনো মার্কেটে মুখ দেয়া, ৩০ মি.লি. লো কোয়ালিটি পার্ফিউম অয়েল সেল করে দেয় ৭০০ টাকায়, মানুষও কেনে লোভে পড়ে। বিলিভার্স এর মালিক আমি যতদূর জানি একজন ডাক্তার তাকে আমি একবার দুয়েকজনকে দিয়ে এই জায়গাগুলোতে ডিসিপ্লিন মেইন্টেন করতে বলিয়েছিলাম, সদুত্তর পাইনি। পেয়েও লাভ নাই, কারণ ক্রেতা যেহেতু আছে সেল করতে আর দোষ কি! এখন আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন ভাই তাহলে বুঝবো কিভাবে অরিজিনাল কোনটা? উত্তর হচ্ছে, টাকা মাইর খাওয়ার পর বুঝবেন।
.
আর যদি ডিক্যান্ট কেনেন তাহলে কোনোভাবেই বুঝবেন না কারণ আসল প্যাকেট বা বোতল কিছুই পাচ্ছেন না, ম্যাচিং করে দেখার সুযোগও নাই৷ এজন্য কমিউনিটিতে এক্টিভ না এমন লোক থেকে ডিক্যান্ট নিয়েন না৷ ফুল প্যাকড পার্ফিউম নিলে প্রথমেই ব্যাচ চেক দিবেন একদম রানিং লেটেস্ট প্রোডাকশন কিনা, ৩ মাস পার হয়ে গেলে নিবেন না, গ্লাস কন্ডিশন, জুস কণ্ডিশন আর অটোমাইজার চেক দিবেন, প্রজেকশন অন্তত ১৫ মিনিট ধরে দেখে এরপর কিনবেন, আপনার কষ্টের টাকা ভাই, যা করবেন বুঝে করেন৷
.
আর তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সারদের হাইপে পরে আন্দাজে ব্লাইন্ডলি কিছু কিনবেন না, হাইপের মালগুলো বাল্কে বাল্কে আসতে থাকে তখনই কপি ঢুকে। এতোটুকো আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি যে মার্কেটে থাকা মিডেল ইস্টার্ণ প্রায় অর্ধেকই কপি প্রোডাক্ট। আর অনলাইনে ব্লাইন্ডলি কেনার ক্ষেত্রে আগে যেকোনো গ্রুপে একটা পোস্ট দিয়ে দেখেন ম্যাক্সিমাম মানুষ কাকে সাজেস্ট করে, তার সম্পর্কে আরো কিছুদিন স্টাডি করুন, ম্যাসেজ দিয়ে দেখুন কমিউনিকেশন ফ্রেণ্ডলি কিনা! ক্লিয়ারকাট রিপ্লাই না দিলে এভয়েড করবেন এবার যত বড় পেইজই হোক, ট্রান্সপারেন্ট থাকা বাঞ্চনীয় এবং কাস্টমার ফ্রেণ্ডলি হতে হবে৷ ২ টা রিপ্লাই দিয়ে হেডম দেখালে ইগ্নোর করুন৷
.
লাস্টলি আমার থেকে ট্রাস্টেড লিস্ট চেয়ে লাভ নেই, আমি নিজে ইউজের জন্য যা কিনি দেশের বাইরে থেকে এবং অফিসিয়াল শো-রুম থেকে কিনি, হ্যাঁ আপনারা অনেকেই জানেন যে আমার নেটওয়ার্ক আছে, চাইলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পার্ফিউম কন্টেইনারও ইম্পোর্ট করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ, কিন্তু আমার টার্গেট আলাদা আমি অয়েল সেকশন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, You people should know why oil is always superior and It’s not a goribi jinish just to break this taboo I am on oil side and tbh I love oils. বাকীটা আপনাদের উপর ছাড়লাম।
.
কিন্তু এরপরেও আমি বেশিদূর পর্যন্ত কাউকে বুঝাতে পারবোনা, এতো বড়লেখা প্রায় ৯০% ই পড়বেনা কারণ আমাদের দেশের মানুষের মস্তিষ্ক অলস, কিন্তু আমি কিছু লেখার টাইমে এমনভাবে লিখার ট্রাই করি যেন কোনো ইনফো তে ল্যাকনেস না থাকে৷ এখন দেখেন আপনারা শেয়ার টেয়ার দিয়ে বাকীদের জানাতে পারেন কিনা। আর ডিক্যান্টের ব্যাপারে আমি সাইলেন্ট কারণ আমি কখনো ডিক্যান্ট কিনিনি, ভবিষ্যতে যদি কিনি বা বেটার রিভিউ পাই তাহলে ডিক্যান্ট কোথাত্তেকে নিলে ভালো তার একটা লিস্ট গ্রুপে দিয়ে দিবো আগে মার্কেট স্টাডি করে দেখি৷