৫৯০ টাকায় ১০ পিছ আতর না বরং নিজেদের জন্য মৃত্যু কিনে নিচ্ছে গ্রাহকেরা, নানান ধরনের রঙ ঢঙে সাজানো চকচকে এসব পার্ফিউম অয়েল ব্যবহারে আপনারা নিজের যে কি লেভেলের ক্ষতি করছেন তা আপনারা নিজেও জানেননা আর যেই জ্ঞানহীনেরা এসব বিক্রি করছে তারাও জানেনা। ইন্ডাস্ট্রি গ্রেডের এসব অ্যারোমা কেমিক্যালের দিকে আপনারা লাফ দিয়ে দিচ্ছেন অথচ এসব আতরের ফলে আপনার ফুসফুস নষ্ট হতে পারে, স্কিনে বারবার লাগলে স্কিন ক্যান্সার হতে পারে এবং নষ্ট হতে পারে চোখও।
.
আতর কোনদিনও কমদামী কিছু নয়, আতর অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ সৌখিনমণ্ডিত একটি জিনিস। রাসূল ﷺ এর খাস সুন্নাত একটা জিনিস কবে থেকে এমন কমদামী হয়ে গেল? আতর সম্পর্কে কি ধরণের জ্ঞান রাখা লাযিম তা কি আপনারা জানেন? মর্ডান অ্যারোমাথেরাপি এবং পার্ফিউমারি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে কোন ধারণা আছে? কেমিক্যাল ম্যাকানিজম সম্পর্কে আইডিয়া আছে? আপনারা তো জেনেবুঝে কেবলই বিষ কিনছেন! বাংলাদেশের মানুষের লোভের মাত্রা এতোটা বেশি কেন? ভোগবাদী এই জাতি শুধু সস্তা অফারের পেছনে কেন ছোটে? এটা কি অজানা কথা যে কমদামী জিনিস কখনো ভালো হবেনা?
.
পার্ফিউম স্পেশালি আধুনিক সিন্থেটিক আতর নিয়ে কাজ করার জন্য অবশ্যই প্রাইমারি এবং প্লেইন কম্পাউণ্ড নিয়ে ধারণা থাকা আবশ্যক, হাইড্রোক্লোরাইড C10H16CHL এবং আরেকটি ইম্পর্টেণ্ট কম্পাউণ্ড হাইড্রোব্রোমাইড C10H16HBr নিয়ে ভালোরকমের ধারণা থাকা জরুরি এদের মেল্টিং লেভেল জানা জরুরি। ডিফারেন্ট pinene এর জন্য ডিফারেন্ট বয়েলিং পয়েন্ট, রোটেটিং পয়েন্ট এবং কাউন্ট থাকে সেগুলো জানা জরুরি। পার্ফিউমারের কাজ কোনদিন কেবল কিনে আনা আর বিক্রি করা না বরং পরখ করাও বটে।
.
যে কেমিক্যালের বিজনেস করবে সে কেমিষ্ট্রি পারেনা তাহলে সে কি আসলেই ভালো জিনিস সেল করছে না বিষ খাওয়াচ্ছে তা আপনারা কিভাবে বুঝবেন? তারপর ঘ্রাণ বোঝার জন্য Cyclohexane (৬ কার্বন) এবং Cyclohexanone এর ব্যাপার বুঝতে হবে, কারন আমাদের স্মেলের সেন্সিবল ম্যাকানিজম কার্বনের সংখ্যার উপর নির্ভর করে। যেমন আমাদের নাক যখন O=C1CCCCCCCCCCCCCCC1 পিরিয়ড এর ঘ্রাণ নেয় তখন মাস্কের ঘ্রাণ পায় কিন্তু যখনই C এর সংখ্যা ১৬ অতিক্রম করে তখন তা ঘ্রাণহীন হয়ে যায়। তাই কম্পাউণ্ড স্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে এগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।
.
এখন আপনার কি মনে হয় ১৩ ক্লাসে ফেইল করা কোন মূর্খ আতর ব্যবসায়ী এগুলো বুঝতে পারবে? অসম্ভব! নামই উচ্চারণ করতে পারবেনা। অথচ আপনারা তাদের কাছে গিয়ে ধন্যা দেন, বরং এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত করা উচিৎ। তাই আবারো বলছি যে আপনারা আগে জিনিস বুঝতে শিখুন তারপর টাকা খরচ করুন৷ আপনারা কেবল নিজেদের মৃত্যু কিনতে ব্যস্ত এখন, আসল আতর কখনই কমদামী কিছু হবেনা, আর আপনার কারনে আপনার পরিবারও কেমিক্যালের শিকার হবে। এমনকি দেখবেন যে কমদামী আতর রেগুলার ইউজ করলে ঠাণ্ডা লেগে যায়।
.
আমি চাইলে এখানে কেমিষ্ট্রির শ খানেক বিষয় ডিস্কাশন করতে পারতাম। কিন্তু সেগুলো থেকে আপনাদের উপকার হতোনা কিছুই আরো মাথা আউলে যেত, জাস্ট রিকোয়েস্ট এটাই যে অনলাইনে মূর্খ অশিক্ষিতদের সস্তা অফার থেকে নিজেকে সেইফ মার্ক করুন আর চেষ্টা করুন ভালো আতর ব্যবহার করতে। নাহলে একটা টাইমে গিয়ে কাঁদবেন যে মিথিলিন ক্লোরাইড, লিমোনেন আর ইথাইল এসিটেড মিক্সড এসব আতর কিনে করে আপনি কি কি হারালেন। যদি পারেন একদম অর্গানিক আতর ইউজ করবেন আর না পারলে পুরোপুরি ফার্স্ট গ্রেডেরগুলো৷ ব্যাস! এতোটুকোই…………। আসসালামু আলাইকুম।
– Scentara
Research Team
#সত্য_জানুন