একটা সহজ কথা বলি ট্রান্স ফ্রান্সের এসব শয়তানি সামনে আরো অনেক দৃঢ় এবং শক্তিশালী হবে, কেননা সমাজে সুক্ষ্মভাবে এসব নরমালাইজ করা হচ্ছে। একটু দেখেন, আমরা যারা মিলেনিয়াম অর্থাৎ নব্বই দশকের ছেলেপুলে আমাদের ত্রিমুখী জীবন দর্শন ও সমাজব্যবস্থা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তবে এতোটুকো বাস্তব যে আমাদের মাঝে আদব কিন্তু বিদ্যমান ছিলো, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন বন্ধুবান্ধবের মহলে গালি দিতেও অনেক সতর্ক থাকতাম, এই না জানি কোন গার্ডিয়ান আমাদের গালি শুনে ফেলে আতংকে থাকতাম এখনকার Gen-Z এর পোলাপানের মাঝে এমন কোন ভয় তো নাই-ই বরং এগুলো তাদের কাছে কুলনেস, গলা উঁচিয়ে গালি দিতে পারার মাঝেই স্বার্থকতা।
.
অ্যামেরিকার পোলাপাইনগুলার কাছেও এখন ডিফারেন্ট প্রোনাউনে পরিচিত হতে পারার স্বাধীনতাটা বিশাল এবং এটাই কুলনেস, এবং যেহেতু আমরা পশ্চিমের চামচা তাই আমরাও এই কুলনেস এডপ্ট করতে চাই, আর এই এডপ্ট করার জন্য বড় বড় ব্যবসায়ীরা আছে দালালের ভূমিকায়। কেননা বড় বড় ব্যবসায়ীদের নটাংকি ছেলেমেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে তারপর ওয়েস্টে পড়তে যায় গিয়ে এসব কুলনেস দেখে এসে নিজেদের পাপা মাম্মিকে জানায় “জানো ওরা এতো কুল কেন? কারন তারা রংধনু তাই আমাদেরও উচিৎ এরকম কুল হতে রংধনু হওয়া” আর পাপা মাম্মিরাও নানান ফাহেশাত স্পন্সর করতে মাঠে নেমে যায়। বিষয়টা এমন না যে আমি আন্দাজে বলেছি, আমার অনেক ক্লোজ আত্মীয় এদেশের বড় বড় গ্রুপ কোম্পানির মালিক এবং এগুলো নিজের চোখেই দেখা।
.
দেখেন ওয়াল্টন একটা নাটককে স্পন্সর করলো এবং এখন চাপে পড়ে বিবৃতির নাটক করলো যে ওরা এসব জানেনা অথচ ওরা এসব প্রমোট করতেছে সেই ২০২০-২১ থেকে, এখন ওপেনলি করতেছে কারন ওয়াল্টনের বানিজ্যিক বাজারের টার্গেট এখন পশ্চিমের বাজার, ওরা রপ্তানির দিকে আগের চেয় ৪০ ভাগ বেশি মনোযোগী। আরেকটু খবর নিলে দেখবেন দেশের প্রাণ আরএফএল, পাঠাওসহ আরো অনেক কোম্পানিই নীরবে ওদের দালালী করতেছে, আর ব্র্যাক আড়ং তো আছেই। এখন বয়কট একটা পথ হতে পারে ওদের ষড়যন্ত্রকে স্লো করার ক্ষেত্রে কিন্তু কেবলমাত্র বয়কট যথেষ্ট হবেনা, দরকার হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা, প্রচণ্ডভাবে বিরোধ গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ লোকগুলোকে অ্যাপ্রোচ করা যেন এসব ঠ্যাকানো হয়, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তো জারি রাখা লাগেবেই।
.
শেষে একটা কথা বলি- বাঙালির কাছে সব কথা চুইঙ্গামের মতো, যতক্ষণ মিষ্টি লাগে ততোক্ষণ চিবোয় এরপর ফেলে দেয়, কিন্তু ট্রান্স ইস্যুর ক্ষেত্রেও যদি বিষয়টা এতোটাই সস্তা হয়ে যায় তাহলে পরবর্তী জেনারেশনের কপালে দুর্ভোগ আছে, তাই এবিষয়ে চোখ কান খোলা রাখা অপরিহার্য, নিজের সন্তানদের ব্যাপারে সজাগ থাকুন কার সাথে মেশে কি করে না করে সব পর্যবেক্ষণ করুন এবং স্কুল বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক চোখ খোলা রাখুন, নাহলে বিপদ থামানো যাবেনা।